• Skip to primary navigation
  • Skip to main content
  • Skip to primary sidebar
  • Skip to footer
AtiqIt

AtiqIt

বাংলা ট্রাভেল ব্লগ

রমনা

রমনা পার্ক

May 13, 2025 by আতিকুর রহমান

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য সুপরিচিত। মসলিন, মসজিদ আর রিকশার শহর হিসেবে একসময় পরিচিত এই নগরী আজ এক বিশাল মহানগরে রূপ নিয়েছে, যেখানে অতীতের স্মৃতি ও আধুনিকতার সম্মিলন ঘটেছে এক অভাবনীয় ছন্দে। এই শহরের বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইতিহাসের এক জ্বলন্ত নিদর্শন হলো রমনা পার্ক—যা শুধু একটি উদ্যান নয়, বরং একটি শহরের ঐতিহ্য ও প্রকৃতির মিলনস্থল।

মুঘল আমল থেকে আধুনিক রমনা

রমনার ইতিহাস শুরু হয় মুঘল শাসনামলে, আনুমানিক ১৬১০ সালে, যখন সুবাদার ইসলাম খান সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তখন রমনা ছিল ঢাকার উত্তরে অবস্থিত এক অভিজাত এলাকা, যেখানে নতুন বাড়ি, মসজিদ, মন্দির, সমাধি ও বাগান নির্মিত হয়। এ অঞ্চল একসময় মুঘলদের সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যকলাপের কেন্দ্র ছিল।

তবে মুঘল শাসনের অবসান ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রমনার জৌলুস হারিয়ে যেতে থাকে। সময়ের পরিক্রমায় এটি পরিণত হয় পরিত্যক্ত ভবন, ঝোপঝাড়, কবরস্থান ও ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরের অঞ্চলে। এই ঐতিহাসিক স্থানটির পুনর্জন্ম ঘটে ১৯৫২ সালে, যখন তৎকালীন সি অ্যান্ড বি বিভাগ (বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তর) এর আধুনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

আধুনিক নকশা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

রমনা পার্ক বর্তমানে ঢাকার সবচেয়ে বড় এবং সুপরিকল্পিত উদ্যানগুলোর একটি। এর মোট আয়তন ৬৮.৫০ একর, যার মধ্যে ৮.৭৬ একরজুড়ে রয়েছে একটি নান্দনিক লেক। পার্কে বিভিন্ন ধরণের গাছপালা যেমন ফুল, ফলজ, ঔষধি ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে, যার সংখ্যা ১২২ প্রজাতিরও বেশি। এখানে নাগেশ্বরচাঁপা, স্বর্ণচাঁপা, কর্পূর, রীঠা, নাগলিঙ্গম, অর্জুন, মহুয়া, কুসুম, তেলসু ও অশোক গাছ বিশেষভাবে চোখে পড়ে।

লেকের চারপাশে ও পার্কজুড়ে নির্মিত হয়েছে প্রশস্ত পথ, নতুন পাঁচটি গেট, ছাউনি, বসার স্থান এবং টয়লেট সুবিধা—যা নাগরিকদের জন্য এক নিঃশব্দ আরাম ও প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বর্তমানে রমনা পার্ক উদ্যানতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং ঢাকা শহরের ইতিহাস ও নগর উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি সকল শ্রেণির মানুষের জন্য উন্মুক্ত ও উপভোগ্য করে তোলা যায়, তবে রমনা পার্ক হতে পারে ঢাকার এক অনন্য প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক আকর্ষণ।

রমনা পার্ক শুধু গাছপালা আর জলাধারের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্থান নয়, এটি ঢাকার অতীত ঐতিহ্য ও নাগরিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই পার্কে হাঁটলে যেন মুঘল আমলের ছায়া, বৃটিশ শাসনের স্মৃতি এবং আধুনিক শহর পরিকল্পনার নিদর্শন একসাথে মিশে যায়—যা প্রতিটি ঢাকাবাসীর গর্ব করার মতো।

উপসংহার

রমনা পার্ক শুধু একটি পার্ক নয়, এটি ঢাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলনস্থল। প্রাচীন মুঘল ঐতিহ্য থেকে শুরু করে আধুনিক শহরায়নের নানা অধ্যায়ে এই পার্ক স্বাক্ষী হয়েছে সময়ের পরিবর্তনের। আজও এটি নাগরিক জীবনের এক শান্ত আশ্রয়স্থল, যেখানে প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়া যায় কোলাহলময় নগরের মধ্যেও। তবে এর পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাগত উন্নয়নের পাশাপাশি সকল শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তখনই রমনা পার্ক হয়ে উঠবে একটি সর্বজনীন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও প্রিয় থাকবে।

টিকিট এবং সময়সূচি

টিকিট :

বর্তমানে রমনা পার্ক সকল দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত, পার্কের  ভিতরে প্রবেশ করতে কোন টিকিট সংগ্রহ বা ফি প্রদান করতে হয় না।

সময়সূচি:

নিচে টেবিল আকারে রমনা পার্কের সকাল ও বিকেলের সময়সূচি দেওয়া হলো:

সময়কাল সময়
সকাল সকাল ৬:০০ – দুপুর ১২:০০
বিকেল বিকেল ২:০০ – রাত ৮:০০

অন্যান্ন তথ্য

বিশেষ দ্রষ্টব্য: রমনা পার্ক সম্পের্কে আরও বস্তারিত তথ্য জানতে উইকিপিডিয়ার বিস্তারিত আর্টিক্যাল দেখুন: দর্শনীয় স্থান: রমনা পার্ক

মানচিত্র

গুগলের মানচিত্রে রমনা পার্ক।

ভিডিও ডকুমেন্টারি

[youtube id=”ylKOu-St_fE”]

Filed Under: এশিয়া, ঢাকা, বাংলাদেশ, ভ্রমণ গন্তব্য Tagged With: Park, Ramna, Ramna Park, উদ্যান, ঐতিহাসিক স্থান, ঢাকা, নগর পরিকল্পনা, পর্যটন, পার্ক, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বাংলাদেশ ইতিহাস, মুঘল ইতিহাস, রমনা, রমনা পার্ক, শহর উন্নয়ন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

January 6, 2025 by আতিকুর রহমান

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, যা একসময় রমনা রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত ছিল, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের এক অনন্য নিদর্শন। ৬৮ একরের বেশি বিস্তৃত এই উদ্যান শুধু একটি সবুজ চত্বর নয়, বরং এটি একাধারে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রতীক। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের কালপর্বে এই ময়দানেই পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইতিহাস বহু পুরোনো। মোগল আমলে এটি মূলত শিকার করার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ব্রিটিশ আমলে এখানে রেসকোর্স ময়দান গড়ে তোলা হয়, যা ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য বিখ্যাত ছিল। পরবর্তীতে, পাকিস্তান আমলে এটি রাজনৈতিক আন্দোলন এবং সভা-সমিতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর, এই ময়দানেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এটি ছিল বাঙালির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের এক চূড়ান্ত বিজয়। ১৯৯৭ সালে, উদ্যানটির নাম পরিবর্তন করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে রাখা হয়, যিনি ছিলেন এক প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও গণতন্ত্রের প্রবক্তা।

উদ্যানের স্থাপত্য ও বৈশিষ্ট্য

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কেন্দ্রে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতি স্তম্ভ মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে চিহ্নিত করে। এখানে একটি বড় উন্মুক্ত চত্বর রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে গণজমায়েত, কনসার্ট, এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উদ্যানের ভেতরে রয়েছে সুন্দর সবুজ ঘাসের প্রান্তর, ছায়াময় গাছ, এবং পাখির কূজন। এই উদ্যান শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আদর্শ স্থান।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

এছাড়াও, উদ্যানের ভেতরে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের নানা দুর্লভ আলোকচিত্র, দলিলপত্র এবং অন্যান্য স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নে সমৃদ্ধ। এখানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কেন্দ্রস্থলে নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভ, যা ১৬ই ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণের দৃশ্যপটকে চিত্রিত করে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় স্তম্ভ আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতার এক অনন্য স্মারক ও বিজয়ের প্রতীক, যা জাতির আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসকে তুলে ধরে। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে এটি জাতীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়াও স্তম্ভটির আশপাশের পরিবেশ এবং এর সঙ্গে যুক্ত মুক্তমঞ্চ স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হতে সহায়ক। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভ্রমণে এই স্তম্ভটি জাতীয় গৌরব ও ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণ।

স্বাধীনতা জাদুঘর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের এক অমূল্য স্মারক। এই জাদুঘরটি আমাদের জাতীয় সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করে। এটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাধীনতার জন্য জাতির আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। জাদুঘরটির স্থাপত্যশৈলী এবং অভ্যন্তরের সাজসজ্জা স্বাধীনতার গল্প বলার এক অনন্য মাধ্যম। এখানে মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ ছবি, ঐতিহাসিক দলিল, ভিডিও ক্লিপস এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়, যা দর্শনার্থীদের ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে নিয়ে যায়।

স্বাধীনতা জাদুঘর
স্বাধীনতা জাদুঘর

বিশেষ করে, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনার প্রতিচ্ছবি এবং স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত দলিল দেখে যে কেউ অনুপ্রাণিত হতে বাধ্য। এটি শুধু জাদুঘর নয়, বরং একটি আবেগঘন স্থান, যেখানে দর্শনার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রামকে অনুভব করতে পারেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভ্রমণে ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’ অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি জাতীয় গৌরবের প্রতীক এবং আমাদের ইতিহাসের এক মর্মস্পর্শী শিক্ষা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই জাদুঘর।

শিখা চিরন্তন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের - শিখা চিরন্তন
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিখা চিরন্তন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শিখা চিরন্তন। এটি একটি শিখা, যা চিরকাল প্রজ্বলিত থাকে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক। শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ স্মরণে। এর চারপাশে তৈরি করা হয়েছে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে দর্শনার্থীরা শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। শিখা চিরন্তন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গৌরবের এক উজ্জ্বল প্রতীক।

ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি আদর্শ স্থান। উদ্যানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। এখানে বসে শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো যায়। উদ্যানের ভেতরে রয়েছে অনেক বেঞ্চ এবং পথচারীদের জন্য হাঁটার রাস্তা। উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে জাতীয় জাদুঘর এবং শাহবাগ বইমেলার স্থান, যা দর্শনার্থীদের জন্য আরও আকর্ষণীয়।

পর্যটকরা উদ্যানের সবুজ প্রকৃতির মাঝে বসে ছবি তোলা, পিকনিক করা, এবং মুক্ত বাতাসে সময় কাটানোর জন্য এখানে আসেন। সন্ধ্যায় উদ্যানের আলোকসজ্জা এক বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। বিশেষ করে শীতকালে এখানে ভ্রমণকারীদের ভিড় বেশি দেখা যায়।

সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রভাব

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি ঢাকার নাগরিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বইমেলা, এবং পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। উদ্যানটি মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

বর্তমান সময়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঢাকার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে হাজারো মানুষ ভ্রমণে আসেন। এটি একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যান, যেখানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। উদ্যানের উন্নয়নে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে, এবং এটি একটি আধুনিক নগর উদ্যান হিসেবে গড়ে উঠছে।

সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ

দুঃখজনক হলেও সত্য, শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত এই মনোরম উদ্যানটি সব শ্রেণির মানুষের আকর্ষণ করতে পারেনি। সাধারণ মানুষের দূরে থাকা অন্যতম একটি কারণ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় কিছু ভবঘুড়ে,  ভাসমান মাদক সেবি, এবং দেহব্যবসায়ীদের উপস্থিতি, যা অনেকের নিরাপত্তাবোধে বিঘ্ন ঘটায়।

উপসংহার

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান শুধু একটি উদ্যান নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং জাতীয় চেতনার এক জীবন্ত প্রতীক। এর প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে বাঙালির সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস। এই উদ্যান আমাদের জন্য শুধু বিশ্রাম নেওয়ার স্থান নয়, বরং এটি আমাদের অতীতকে জানতে এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা অর্জনের এক অপূর্ব স্থান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তাই যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে থাকবে।

টিকিট এবং সময়সূচি

টিকিট:

স্বাধীনতা জাদুঘরের গ্যালারি পরিদর্শনের প্রবেশ মূল্য।

স্বাধীনতা জাদুঘরের গ্যালারি পরিদর্শনের প্রবেশ মূল্য
স্বাধীনতা জাদুঘরের গ্যালারি পরিদর্শনের প্রবেশ মূল্য
শ্রেণী প্রবেশ মূল্য
বাংলাদেশি নাগরিক ২০ (বিশ) টাকা
সার্কভুক্ত দেশের নাগরিক ৩০০ (তিনশত) টাকা
অন্যান্য বিদেশি নাগরিক ৫০০ (পাচশত) টাকা
১২ বছরের নিচে শিশু ১০ (দশ) টাকা
প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রবেশ মূল্য প্রযোজ্য নয়

বিশেষ দ্রষ্টব্য: শুধুমাত্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য কোন প্রকার টিকেট সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই।

সময়সূচি:

নিচে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সময়সূচীটি টেবিল আকারে দেওয়া হলো:

দিন সময়
সোমবার ৫:০০ AM – ১০:৩০ PM
মঙ্গলবার ৫:০০ AM – ১০:৩০ PM
বুধবার ৫:০০ AM – ১০:৩০ PM
বৃহস্পতিবার ৫:০০ AM – ১০:৩০ PM
শুক্রবার ৫:০০ AM – ১০:৩০ PM
শনিবার ৫:০০ AM – ১০:৩০ PM
রবিবার ৫:০০ AM – ১০:৩০ PM

অন্যান্ন তথ্য

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সম্পের্কে আরও বস্তারিত তথ্য জানতে সরাসরি ঢাকা জেলার সরকারি ওয়েব সাইট ভিজিট করুন: দর্শনীয় স্থান: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

মানচিত্র

গুগলের মানচিত্রে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

Filed Under: ঢাকা, বাংলাদেশ, ভ্রমণ গন্তব্য Tagged With: রমনা, রমনা রেসকোর্স, রেসকোর্স, রেসকোর্স ময়দান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

Primary Sidebar

জনপ্রিয় পোস্ট

সেরা পছন্দ

  • » বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার ভ্রমণ স্পট ও দর্শনীয় স্থান
  • » ভ্রমণের আগে করণীয় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ: সঠিক প্রস্তুতির চেকলিস্ট
  • » ভ্রমণের আগে করণীয় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ
  • » বাংলাদেশ: প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অপার সৌন্দর্যের দেশ

সাম্প্রতিক পোস্ট

  • ঢাকা বিভাগ
  • বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকো পার্ক, সীতাকুন্ড
  • রমনা পার্ক
  • দায়িত্বশীল ভ্রমণ টিপস: বর্জনীয় বিষয় সমূহ
  • খেলারাম দাতার কোঠা
  • বাংলাদেশের ১০টি আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান

Design

With an emphasis on typography, white space, and mobile-optimized design, your website will look absolutely breathtaking.

Learn more about design.

Footer

Content

Our team will teach you the art of writing audience-focused content that will help you achieve the success you truly deserve.

Learn more about content.

Strategy

We help creative entrepreneurs build their digital business by focusing on three key elements of a successful online platform.

Learn more about strategy.

কপিরাইট © ২০২৫ ট্রাভেলার আতিক, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

  • সম্পর্কিত
  • গোপনীয়তা
  • শর্তাবলী
  • যোগাযোগ
  • সাইটম্যাপ